ই-কমার্স ব্যবসার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি কি ???

ফেসবুক অ্যাড চালানোর সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেট্রিক্সের উপর নজর রাখা খুবই জরুরি। এই মেট্রিক্সগুলো বুঝতে পারলে আপনি Facebook অ্যাডের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলো আপনার পরিবর্তন আনা প্রয়োজন সেটা আপনি বুঝতে পারবেন।
ম্যাট্রিক্স গুলো যদি সহজে বুঝতে পারেন তাহলে আপনি আপনার কনটেন্টের প্রবলেম আছে কিনা বা আপনার ওয়েবসাইটে প্রবলেম আছে কিনা বা কাস্টমার একাউন্ট পেইজে গিয়ে প্রবলেম ফেস করতেছে কিনা বা আপনার যে প্রোডাক্ট সাজিয়েছেন সেখানে কোন প্রবলেম আছে কিনা কাস্টমার কোন প্রবলেম ফেস করতেছি কিনা সেটা আপনি সহজে বুঝতে পারবেন এবং পরবর্তীতে পরিবর্তন এনে আমরা সেলস কে বাড়িয়ে তুলতে পারবেন।

Impressions (ইমপ্রেশনস): আপনার অ্যাডটি কতবার মানুষের সামনে এসেছে, সেটাই ইমপ্রেশন। এটি বুঝতে সাহায্য করে আপনার অ্যাড কতজনের সামনে এসেছে এবং কতবার প্রদর্শিত হয়েছে। তবে শুধু ইমপ্রেশন নয়, রিচের উপরও নজর দিতে হবে।

Reach (রিচ): Reach বোঝায়, কতজন আলাদা ব্যক্তি আপনার অ্যাডটি দেখেছে। যদি একই ব্যক্তি আপনার অ্যাডটি একাধিকবার দেখে, তাহলে সেটি ইমপ্রেশনের সংখ্যা বাড়াবে, কিন্তু রিচ কেবল সেই ব্যক্তির একবার দেখাকেই গণনা করবে। এর ফলে আপনি বুঝতে পারবেন, অ্যাডটি কতজন আলাদা মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

Clicks (ক্লিকস): ক্লিকস মেট্রিক্স বোঝায়, কতজন ব্যক্তি আপনার অ্যাডে ক্লিক করেছেন। এটি আপনার অ্যাড থেকে আসা ট্র্যাফিক পরিমাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রিক্স। ক্লিক সংখ্যা বেশি হলে বুঝতে পারবেন যে আপনার অ্যাডটি আকর্ষণীয় হয়েছে।

CTR (Click-Through Rate): CTR হলো, অ্যাড দেখে কতজন ক্লিক করেছে তার শতকরা হার। ধরুন, ১০০ জন অ্যাড দেখেছে এবং ৫ জন ক্লিক করেছে, তাহলে আপনার CTR হবে ৫%। এটি অ্যাডটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উচ্চ CTR মানে আপনার অ্যাডটি মানুষের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।

CPC (Cost Per Click): প্রতি ক্লিকের জন্য কত টাকা খরচ হচ্ছে সেটাই CPC। কম CPC মানে কম খরচে বেশি ক্লিক পাওয়া। আপনার অ্যাডের কন্টেন্ট, টার্গেট অডিয়েন্স এবং বিডিং স্ট্র্যাটেজির উপর CPC নির্ভর করে।

CPM (Cost Per Impressions): CPM (Cost Per Thousand Impressions): CPM বোঝায়, ১০০০ বার আপনার বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য কত টাকা খরচ হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি ২০০০ টাকা খরচ করেছেন এবং আপনার বিজ্ঞাপনটি ১০,০০০ বার দেখানো হয়েছে। তাহলে আপনার CPM হবে ২০০০ টাকা ÷ (১০,০০০ ÷ ১০০০) = ২০০ টাকা।
CPM মূলত তখন ব্যবহার করা হয় যখন আপনি ব্র্যান্ডিং করতে চান এবং আপনার বিজ্ঞাপন যত বেশি মানুষের সামনে আসবে, ততই ভালো। যদি আপনার CPM কম হয়, তবে আপনি কম খরচে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, যা আপনার ব্র্যান্ডের প্রচারে সহায়ক হবে।

View Content (ভিউ কনটেন্ট): ভিউ কনটেন্ট মেট্রিক্সটি বোঝায়, কতজন ব্যক্তি আপনার ওয়েবসাইট বা প্রোডাক্ট পেজটি দেখেছেন। এটি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে যে, অ্যাডটি ক্লিক করার পর কতজন আপনার কনটেন্টটি দেখে আগ্রহী হয়েছেন।

Add to Cart (অ্যাড টু কার্ট): এটি বোঝায়, কতজন ব্যক্তি আপনার প্রোডাক্টটি কার্টে যোগ করেছেন। অ্যাড টু কার্ট সংখ্যার উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় কতজন ব্যক্তি আপনার প্রোডাক্ট কেনার পথে এগিয়েছে।

Checkout (চেকআউট): চেকআউট মেট্রিক্সটি বোঝায়, কতজন ব্যক্তি পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় গিয়েছেন। এই মেট্রিক্সটি কাস্টমারের ক্রয় প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং চেকআউট থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে কতজন পেরেছে, সেটা দেখায়।

Purchase (পারচেজ): এই মেট্রিক্সটি বোঝায়, কতজন ব্যক্তি আপনার প্রোডাক্টটি ক্রয় করেছেন। Purchase হল চূড়ান্ত মেট্রিক্স যা আপনার ব্যবসার সফলতা পরিমাপ করে।

Conversion (কনভার্শন): কনভার্শন বুঝায়, আপনার অ্যাড দেখে কতজন ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। এটি সেলস, রেজিস্ট্রেশন বা অন্য কোনো লক্ষ্য অর্জন করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

CPA (Cost Per Acquisition): একজন কাস্টমারকে অর্জন করতে কত খরচ হচ্ছে, সেটাই CPA। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি একটি ফেসবুক বিজ্ঞাপনের জন্য ৫,০০০ টাকা খরচ করেছেন এবং সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনি ১০ জন কাস্টমার পেয়েছেন। তাহলে আপনার CPA হবে ৫,০০০ টাকা ÷ ১০ কাস্টমার = ৫০০ টাকা প্রতি কাস্টমার।
CPA কম রাখার চেষ্টা করা উচিত, যাতে কম খরচে বেশি কাস্টমার অর্জন করা যায়। যদি আপনার CPA ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা হয়, তাহলে আপনি একই খরচে আরও বেশি কাস্টমার পেতে সক্ষম হবেন, যা আপনার ব্যবসার জন্য বেশি লাভজনক হবে।

ROAS (Return on Ad Spend): ROAS বোঝায়, আপনার অ্যাডে খরচ করা টাকার বিপরীতে কত আয় হচ্ছে। যদি আপনি ১০০০ টাকা খরচ করে ৩০০০ টাকা আয় করেন, তাহলে ROAS হবে ৩। এটি আপনার অ্যাডের কার্যকারিতা মাপার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রিক্স।

Frequency (ফ্রিকোয়েন্সি): এটি বোঝায়, একজন ব্যক্তি কতবার আপনার অ্যাড দেখেছে। Frequency বেশি হলে অ্যাডটি বিরক্তিকর হতে পারে, তাই এটি মনিটর করা প্রয়োজন।

এই মেট্রিক্সগুলো বুঝে সঠিকভাবে ব্যবহার করুন এবং আপনার প্রবলেম গুলোকে ফাইন্ড আউট করুন সহজেই সমস্যা সমাধান করুন। ধন্যবাদ
পোস্টটি শেয়ার করে আপনার টাইম লাইনে রেখে দিতে পারেন আপনার অবসর সময়ে পড়ে কাজে লাগাতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top