ই-কমার্সে মার্কেটিং – কে কেন দোষ দেন? সমস্যাটা আপনার কাস্টমার জার্নিতে

ই-কমার্স ব্যবসায় আমরা প্রায়ই বলি, “মার্কেটিং ঠিকমতো কাজ করছে না, তাই সেলও হচ্ছে না।” তবে কি আসলেই সমস্যার মূলে শুধু মার্কেটিং?
একটু খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, প্রডাক্ট, সেলস, সাপোর্ট সিস্টেম, আর কন্টেন্ট—এসব জায়গায় কিছু ছোট ছোট গ্যাপ থেকেই আসল সমস্যা তৈরি হয়। চলুন সমস্যাগুলো এবং এর সহজ সমাধান সহজভাবে আলোচনা করি।
প্রডাক্ট লাইনে সমস্যাঃ
প্রডাক্ট পাইপলাইন ঠিক না থাকা: সঠিকভাবে প্রডাক্টের মজুদ না রাখলে কাস্টমার কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হলে বিজনেসে অনেক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়।
প্রডাক্ট কোয়ালিটি ঠিক না রাখা: ভালো কোয়ালিটির প্রডাক্ট না দিলে কাস্টমার একবার কিনেই আপনাকে এড়িয়ে যাবে।
ডেলিভারিতে ডেডলাইন না মানা: সঠিক সময়ে প্রডাক্ট না পৌঁছালে কাস্টমারের বিশ্বাস নষ্ট হয়।
আপনার করণীয় কী?
প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্টে স্টক ট্র্যাকিং করা। কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে রেগুলার চেকিং করা এবং সাপ্লাই চেইন টিমকে প্রপার ট্রেইনআপ করা।
সেলস টিমের চ্যালেঞ্জঃ
সেলস পারসন হায়ার করে ট্রেনিং না দেওয়া: সেলস টিমকে দক্ষ করতে হলে সঠিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এইক্ষেত্রে কোম্পানিকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে।
অযোগ্য সেলার নিয়োগ: যোগ্যতাবিহীন সেলার পুরো টিমের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই কাজের ফোর্টফোলিও দেখে হায়ার করতে হবে।
সেলারদের মাইন্ড ট্রেনিং না করা: সেলসের চাপ নিতে হলে মানসিক প্রস্তুতি থাকা খুবই জরুরি। তাই সপ্তাহে মাইন্ডসেট ট্রেনিং ব্যবস্থা করা যদি তাও সম্ভব না হয় ১ পাক্ষিক অথবা মাসিক ভিত্তিতে ট্রেনিং করা।
সেলারি ও কমিটমেন্ট নিয়ে উদাসীনতা: যোগ্য সেলার ধরে রাখতে হলে তাদের উপযুক্ত সেলারি দেওয়া এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। অনেকসময় ছোট ভুলে জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন সেলস এক্সিকিউটিভকে হারিয়ে বসে কোম্পানিগুলো তাই সেদিকেও নজর দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টিম লিডারের দক্ষতার ঘাটতি: একজন অদক্ষ লিডার পুরো টিমের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। তাই টিম লিডার এমন নির্বাচন করা যেন পুরো টিমকে উদ্দীপ্ত রাখতে পারে।
সেলস এক্সিকিউটিভদের মনিটর না করা: কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ না করলে উন্নতি সম্ভব নয়। তাই এটাও মোস্ট ইম্পরট্যান্ট যে সেলস টিমের উপর নজর রাখা।
আপনার করণীয় কী?
সেলস টিমকে গাইড করতে দক্ষ টিম লিডার নিয়োগ দিন। নিয়মিত ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করুন।
সাপোর্ট সিস্টেমের দুর্বলতা
কাস্টমার সাপোর্টে অবহেলা করা: কাস্টমার যদি সঠিক সাপোর্ট না পান, তাহলে তারা অন্য ব্র্যান্ডের দিকে চলে যাবে। তাই ইন্সট্যান্ট সাপোর্ট সিস্টেম চালু করা সকল কাস্টমারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্সট্যান্ট সাপোর্ট ধীরগতি করা: আজকের যুগে গ্রাহকরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান কিন্তু বিপরীতে অনেক কোম্পানি কাস্টমারকে সেইভাবে সেবা দিতে ব্যর্থ হয় যার দরুণ কাস্টমারের হারাতে থাকে প্রতিনিয়ত।
দূর্ব্যবহার করা: কাস্টমারের সঙ্গে বাজে ব্যবহার ব্র্যান্ডের ইমেজ নষ্ট করতে যথেষ্ট। তাই সেলস টিমকে সেইভাবে ট্রেইনআপ করা যেন একটা কাস্টমারও যেন কোম্পানির প্রতি অসন্তুষ্ট না হয়।
আপনার করণীয় কী?
সাপোর্ট টিমকে পেশাদার হতে প্রশিক্ষণ দিন। ইন্সট্যান্ট সাপোর্ট দিতে অ্যাডভান্সড টুলস ব্যবহার করুন এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতা নিয়ে রেগুলার ফিডব্যাক নিন।
কন্টেন্টে সমস্যা
স্ট্রাটেজি ছাড়া সেলস ফোকাস কন্টেন্ট বানানো: কন্টেন্ট কেবল সেলসের জন্য নয়, ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর মাধ্যমও।
নতুনত্বের অভাব: একঘেয়ে কন্টেন্ট অডিয়েন্সকে মনোযোগ হারায়। তাই কন্টেন্ট ক্রিটিভিটি আনা মোস্ট ইম্পরট্যান্ট।
অডিয়েন্সের ট্রাস্ট নিয়ে কাজ না করা: বিশ্বাস ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সেলস অসম্ভব। কন্টেন্ট এমনভাবে সাজাতে হবে যেন এক ঢিলে দু পাখি মারা যায়। যেমন সেলসও হবে তেমন কাস্টমারের ট্রাস্টও বাড়বে।
আপনার করণীয় কী?
নতুন কন্টেন্ট আইডিয়া আনা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে মানসিক সংযোগ তৈরি করা। কন্টেন্টের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য ভ্যালু দেওয়া।
ই-কমার্সের সফলতার জন্য প্রতিটি স্তরে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু ‘মার্কেটিং-এ সমস্যা’ বলে দায় এড়ানো যাবে না। প্রডাক্ট কোয়ালিটি, সেলস টিম, সাপোর্ট সিস্টেম, এবং কন্টেন্ট—সবকিছু ঠিক থাকলে সাফল্য আসবেই। আর তখন দেখবেন, মার্কেটিংও আপনাকে ম্যাজিকের মতো রেজাল্ট দিচ্ছে!
হ্যাপি ল্যার্নিং
শেয়ার করে টাইম লাইনে রেখে দিন অবসরে পড়তে পারবেন। ধন্যবাদ🌿

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top